ক বি না দি রা আ জা দ
নাদিরা আজাদ
বাড়ি কোচবিহার জেলার দিনহাটার প্রান্তিক গ্রাম বড় আটিয়া বাড়িতে। তিন চার বছর ধরে লিখছেন। বাংলা বিষয়ে এম এ চূড়ান্ত বছরের ছাত্রী। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :-মুখোশ পৃথিবী,খড়কুটোর ডাকে, মৃত ফুল ও সবুজ দেশের কবিতা ।
ডানার ঘুম
মরে যাওয়া পালক ঝেড়ে ফেলে সন্ধ্যার কাক
নদীর স্মৃতি বিস্মরণ হয়,
মনে পড়ে তীরে থাকা বটের ঝুরির দেশ
যে আঁধারে লুকিয়ে থাকে হাজার পাখি ও কৈশোর প্রেম।
একটা অধ্যায় পেরিয়ে যুগ মাড়িয়ে এগিয়ে চলেছি অজানা সাগরে
শরীরের তলপেটে অভেদ্য শৈবাল-উরুতে লুকোনো দুঃখ
চোখ জুড়ে যে অভাব-কেউ দেখে না; শুধু ফেটে যায় তলদেশ।
বটের মতোই আমিও থরে থরে সাজিয়েছি ঝুরির দেওয়াল
ব্যথাদের গোপনে জিইয়ে রাখার ঘর করেছি ;
সব যন্ত্রনা ঘোষিত হলে তীব্রতা কমে যায়
তাই পোয়াতি দুপুরের ঘুঘুডাকা কান্নার স্বর লুকিয়ে রাখি।
নদীর সঠিক গভীরতা জানলে যেমন ডুবুরি দস্যু হয়....
মেরু বিন্দু
আমরা দুইটি মেরুর মানুষ
বটগাছের মতো শেকড় ছড়িয়ে...
এখন মাত্র বর্ষের দুরত্ব
আমাদের সন্তান লতানো গাছের মতো জড়াচ্ছে।
মরুভূমির মানুষদের ধর্মগ্রন্থ আলাদা
প্রতিটি মানুষের ভেতর যে গাছ থাকে --
তারই দেহ...বাকল থেকে বেরিয়ে আসে পাপ
প্রেম-রোগ-শোক-মোহ ;
তোমার বুকের ভেতরের পাখির বাসাগুলির স্থায়ী দলিল কোথায়!
নাকি বয়স বাড়লে মরে যাবে ফুল--শিশুময়ূর খয়েরি শালিখ !
আমি শীতল মেরুতেই ফিরে যাবো
কঠোরতম নীল বয়সে নাবালিকা কাক বাঁচবে
গাছ হলে ঠাঁই দিতে হয়...
আদম ইভও পেয়েছিল...


Comments
Post a Comment