ক বি-অ নু বা দ ক স প্ত র্ষি রা য়


সপ্তর্ষি রায় 

সত্তর দশকে কবিতা লেখার শুরু। খুব কমই লেখেন। এখনও পর্যন্ত তাঁর চারটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে।এখন এমন দিন,জন্মের ভিটেমাটি,কালপর্ব,সূর্য এক্ষুনি পাশ ফিরবে।


বিশিষ্ট পোলিশ কবি জবিগনিয়েভ হেরবেরট-এর কবিতার অনুবাদে কবি-অনুবাদক সপ্তর্ষি রায়


















পোলিশ কবি প্রাবন্ধিক ও নাটক রচয়িতা জবিগনিয়েভ হেরবেরট যুদ্ধ উত্তরকালীন সময়ের একজন সুপরিচিত ও সর্বাধিক ভাষান্তরিত পোলিশ লেখক। 

ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশে তিনি ভ্রমণ করেছেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের সাহিত্য কর্মে এবং কখনও বা অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রয়াসে ।

বিভিন্ন পরিবেশ ও পরিস্থিতির বাধা পেরিয়ে নিজেকে শিক্ষিত করেছেন অর্থনীতি ও আইন বিদ্যায়। তরুণ হেরবেরট পোলিশ গুপ্তবাহিনীতে নাজিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন। 

প্রথম কাব্যগ্রন্থ Chord of Light 1950 এ ছাপা হলেও 1956এ প্রকাশিত হয়। অনান্য অনেক  সাহিত্য কর্মের মধ্যে কবির উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:Hermes, Dog and Star (1957),Study of the Object (1961),

Inscription (1969),Mr Cogito (1974),Report from  Beseiged City and other poems (1983 ) কবির  সর্বাধিক পরিচিত ও প্রচারিত কাব্যগ্রন্থ:- Elegy for the Departure (1990),Epilogue to a Storm  তার শেষ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 

হেরবেরট তার কবিতার মননশীল নির্মাণে ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে মানুষের কথা ও তাঁর মর্যাদার বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন।তাঁর কবিতায় লক্ষ্য করা যায় পৌরাণিক কাহিনী,মধ্যযুগীয় বীর ও শিল্পকর্মের প্রসঙ্গ। 

ইউরোপের কবিতার ধারাবাহিকতায় জবিগনিয়েভ হেরবেরট একজন প্রতিষ্ঠিত উজ্জ্বল নাম। 


উলঙ্গ নগরী (Naked town)


আপাতদৃষ্টিতে সেই নগরী লোহার পাতের মতো টানটান  

সাথে আছে গির্জার পঙ্গু হাত ও ছুঁচলো থাবা 

নাড়িভূড়ির রঙের পায়ে চলার পথ 

চামড়াছাড়ানো ঘরবাড়ি

নগরীটি সূর্যের হলুদ ঢেউয়ের নীচে জলখড়িময় চাঁদের ঢেউ


হে নগরী কোন্ সে নগরী কি সেই নগরীর নাম 

কোন নক্ষত্রের নিচে কোন্ রাস্তায়


বিশাল বাড়ির কসাইখানায় লোকজনেরা কাজ করে

চারপাশে কাঁচা কংক্রিটের চাঁই রক্তগন্ধময়

আর পশুদের অনুতাপজনিত স্তোত্র

সেখানে কি কবিরা থাকে (নীরব কবিরা)

শহরতলির দিকে সেনাবাহিনীর ছাউনিতে ভীষণ 

হট্টগোল

রবিবারে ব্রিজের ওদিকে কাঁটার ঝোপঝাড়ে ঠান্ডা বালিতে

মেয়েরা সৈন্যদের ডেকে নেয় মরচে পড়া ঘাসে

অবশ্য কিছু এমন জায়গা আছে যা স্বপ্ন দেখার জন্য নির্ধারিত--- ছায়াছবি

সাদা দেয়ালে অবিদ্যমান ছায়ার বিচ্ছুরণ

ছোট প্রেক্ষাগৃহে সুরা ঢালা হয় হালকা এবং ভারী গ্লাসে

শেষে কুকুরেরাও আছে    ক্ষুধার্ত কুকুরের গর্জন 

আর এই রীতিতেই নগরীর সীমান্ত সূচিত হয়- আমেন


এখনও তুমি জিজ্ঞাসা করছো এই নগরীর নাম কী

রাগে দাঁত কিড়মিড় করার উপযুক্ত যে নগরী 

কোথায় সে নগরী


শিরদাঁড়ার ভিতরে যে বাতাস যে হাওয়া স্তম্ভ 

এবং সেখানে যে লোকেরা বাস করে তাদের চামড়া আমাদেরই মতো

অথবা লোকেদের মুখমন্ডল  অথবা


আমাদের নষ্ট না হওয়ার পালাগান (A Ballad that we do not perish)



ভোর না হতেই যারা যাত্রা করেছিল 

কোনও দিন ফিরবে না জেনে

তারা চিন্হ রেখে গেল ঢেউয়ের উপর 


সমুদ্র অতলে পড়ে আছে একটা কামানের গোলা

ওষ্ঠের মত সুন্দর  সেই গোলা হয়ে ওঠে পাথর


ধুলি ধুসরিত পথে যারা হেঁটেছিল

কিন্ত পৌঁছতে পারেনি বন্ধ জানালার কাছে

যদিও তারা আগেই দেখেছিল বাড়ির ছাদ--


তারা আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিল বাতাসের ধ্বনির মাঝে


কিন্ত যারা ফেলে রেখে যায় শুধুমাত্র এক নিস্তাপ ঘর

কিছু বইপত্র   খালি দোয়াতদানি   সাদা কাগজ


সত্যি বলতে কি তারা পুরোপুরি মারা যায়নি

তাদের ফিসফিসানি ঘুরে বেড়ায় দেয়ালকাগজের স্তুপে

তাদের সুস্থির মস্তিষ্ক এখনও বেঁচে আছে সিলিংয়ে


নিষ্পাপ পৃথিবীর বাতাসে বাতাসে

তাদের স্বর্গ গড়া হয়েছিল জল চুন আর হাওয়ায়

সেই স্বর্গীয় হাওয়ার হাতে তাদের শরীর ধুলিসাৎ হবে

তাদের বয়ে নিয়ে যাওয়া হবে তৃণভূমির বিশ্বে



স্বর্গোদ্যান থেকে প্রতিবেদন (Report from paradise)



স্বর্গোদ্যানে সপ্তাহে তিরিশ ঘন্টা কাজ নির্দিষ্ট 

বেতন বেশি       জিনিসের দাম নিম্নাভিমুখী

কায়িকশ্রম ক্লান্তিকর নয় (কম অভিকর্ষের জন্য)

কাঠকাটা টাইপ করার থেকে বেশি পরিশ্রমের নয়

সামাজিক বিন্যাস স্থিতিশীল এবং শাসকেরা বিজ্ঞ

সত্যি বলতে স্বর্গোদ্যানে একজন যে কোনও 

দেশের তুলনায় বেশ ভালোই থাকে


প্রথমদিকে অন্যরকম হওয়ার ছিল

আলোকময় বৃত্তে বৃন্দগান আর বিমূর্তের মাত্রা

কিন্তু তারা ঠিক আলাদা করতে পারেনি

দেহ থেকে আত্মার এবং সেজন্য চলে আসবে

মেদ খন্ডের সাথে মাংসপেশীর আঁশ

এর ফল ভোগ করা জরুরি ছিল 

অসীম অস্তিত্ব কণায় মিলিয়ে দেওয়া কাদামাটির কণা

আরো একবার অমান্য হল উপদেশ যে অধঃপতন পূর্বেই একমাত্র জন দেখতে পেয়েছিল : 

তোমার পুনর্জন্ম হবে রক্তমাংসে


বেশি কেউ ঈশ্বর দেখতে পায় না

তিনি শুধু তাদেরই জন্য শতকরা একশোভাগ বায়বীয়

বাদবাকিরা অলৌকিকের ও বন্যার ঘোষনা শোনে 

একদিন সকলেই ঈশ্বর দেখতে পাবে

কবে সেটা ঘটবে কেউ জানে না


তবে এখন যেমন প্রতি শনিবার দুপুরবেলায়

সুরেলা স্বরে সাইরেন বাজে

এবং কারখানা থেকে বেরিয়ে পড়ে দিব্য সর্বহারারা

দু'হাতের নিচে তাদের পাখনা যেন বেহালা 

বয়ে চলে আনাড়ির মতন 











 







 



Comments

Popular posts from this blog

ক বি লি পি চৌ ধু রী

ক বি প বি ত্র ম ন্ড ল