ক বি- অ নু বা দ ক তূ য়া নূ র
তূয়া নূর
জন্ম:-যশোর শহরের পুরাতন কসবায়।বাবা এ কে নূর মোহাম্মদ। মা জামিলা নূর। পড়াশুনা ও বেড়ে ওঠা এই যশোর শহরে। উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার জন্য আসি ঢাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসীতে পড়াশুনা শেষ করে পাড়ি দিই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে উচ্চ শিক্ষার জন্য। লেখালেখি ছোটবেলা থেকেই।ছড়া, কবিতা, অনুবাদ ও গল্প লিখতে ভাল লাগে
বিশিষ্ট আমেরিকান-লেবানিজ কবি খলিল জিবরানের কবিতার অনুবাদে কবি-অনুবাদক তূয়া নূর
আমেরিকান-লেবানিজ কবি খলিল জিবরানের জন্ম ওসমানীয় সাম্রাজ্যের লেবাননে ১৯৮৩ সালের ৬ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে অভিভাবকদের সাথে অভিবাসন করেন যুক্তরাষ্ট্রে। বৈরুতের পর প্রাথমিক শিক্ষা পান বোস্টন থেকে। প্যারিসে যান ১৯০৮ সালে চিত্রকলার উপর পড়াশুনা করতে। প্যারিস থেকে ফিরে
এসে বোস্টনে। বোস্টন থেকে নিউ ইয়র্কে। চিত্রশিল্পী হতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর লেখালেখির শুরু ১৯১৩ সালের দিকে। নিউ ইয়র্কের এক আরবি খবরের কাগজে তিনি নিয়মিত কলাম লিখতে শুরু করেন।
প্রেম, মৃত্যু, প্রকৃতি এবং স্বদেশের জন্য আকাঙ্ক্ষার মতো বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করে, তা গীতিকারে পূর্ণ এবং জিব্রানের গভীর ধর্মীয় ও রহস্যময় প্রকৃতির প্রকাশ।
তিনি ইংরেজি ও আরবি দুই ভাষাতেই লিখেছেন। আরব বিশ্বে জিবরানকে সাহিত্য ও রাজনীতিতে বিদ্রোহী ধারা নিয়ে আসেন। আধুনিক আরবি সাহিত্যের রেনেসাঁয় তিনি রোমান্টিক যে ধারার সূচনা করেছিলেন তা তাঁকে জনপ্রিয় করেছে। বিশেষ করে উল্লেখ করতে হয় তার গদ্য কবিতার কথা। প্রেম, মৃত্যু, প্রকৃতি এবং স্বদেশের জন্য আকাঙ্ক্ষার মতো বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করেছেন।
লেবাননে তিনি এখনো তিনি সমান জনপ্রিয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে তিনি দ্যা প্রফেটের জন্য পরিচিতি লাভ করেন। বাংলা ভাষায়ও এটা অনুদিত হয়েছে।
আরবি ভাষায় জিবরানের প্রধান কাজগুলি হল: আরাইজ আল-মুরাজ (১৯১০) দামাহ ওয়া ইবতিসামাহ (১৯১৪) আল-আরওয়াহ আল-মুতামাররিদাহ (১৯২০); আল-আজনীহ আল-মুতাকাসিরাহ (১৯২২); আল-আওয়াসিফ (১৯২৩); এবং আল-মাওয়াকিব (১৯২৩)। ইংরেজিতে তাঁর প্রধান কাজগুলি হলো দ্য ম্যাডম্যান (১৯১৮), দ্য ফোররানার (১৯২০), দ্য প্রোফেট (১৯২৩), স্যান্ড অ্যান্ড ফোম (১৯২৬), এবং জিসাস, দ্য সন অফ ম্যান (১৯২৮)।
জিবরান ১৯৩১ সালের ১০ এপ্রিল নিউইয়র্ক সিটিতে আটচল্লিশ বছর বয়সে মারা যান। জাহাজে করে তাঁর কফিন লেবাননে আনা হয়। তাঁর শহর বাশারীতে শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সমাহিত করা হয়।
কাকতাড়ুয়া
নির্জন মাঠের এক কাকতাড়ুয়াকে আমি বললাম,
এখানে একা দাঁড়িয়ে নিশ্চয়ই ক্লান্ত তুমি!
সে বললো,ভয় দেখানোর আনন্দটা গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী,এবং আমি একটুও ক্লান্ত হই না তাতে।
আমি এক মুহূর্তকাল ভেবে বললাম, সত্যিতো! আনন্দের কারণটা আমারওতো জানা আছে।
কাকতাড়ুয়া বললো, তারাই শুধু জানতে পারে যাদের ভেতর খড়-কুটো দিয়ে ভরা।
তারপর আমি তাকে ফেলে চলে এলাম, বুঝলাম না সে প্রশংসা না ঠাট্টা করে বললো কথা গুলো।
এক বছর কেটে গেল, এর ভেতরে সেই কাকতাড়ুয়া যেন দার্শনিক বনে গেছে।
আবার যখন তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম
দেখলাম দু’টো কাক বাসা বাঁধছে তার টুপির নীচে।
ভয়
বলা হয় সাগরে মেশার আগে
নদী ভয়ে কেঁপে ওঠে
ফিরে দেখে ফেলে আসা পথে
কোন এক পাহাড়ের চূড়া থেকে,
বনাঞ্চল ও গ্রামের দীর্ঘ আঁকাবাঁকা পথ পার হয়ে আসা।
এখন তার সামনে,
সে দেখে বিশাল বড় সমুদ্র,
সেখানে পতিত হওয়া মানে বিলীন হওয়া চিরতরে।
কিন্তু উপায় তো নেই আর।
ফিরে যেতে পারে না নদী।
কেউ ফিরে যেতে পারে না।
অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের মাঠ থেকে ফিরে যাওয়া অসম্ভব।
নদীকেও নিতে হয় সাগরে পতিত হবার ঝুঁকি
তাতেই হয় সমস্ত ভয় দূর,
এখানে এসেই নদী জানে এতো শুধু
সাগরে বিলীন হওয়া নয়,
এতো এক সমুদ্র হয়ে ওঠা।


Comments
Post a Comment