ক বি ম নো জ পা ই ন
মনোজ পাইন
শুন্য দশকের কবি,পেশায় শিক্ষক।লালমাটির দেশ বাঁকুড়া জেলার সিমলাপাল ব্লকের জড়িষ্যা গ্রামে জন্ম। পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা বাঁকুড়াতেই।তারপর চাকরির সূত্রে শিলিগুড়ির বাসিন্দা। কবিতা ছাড়াও গদ্য, প্রবন্ধ, ছোটগল্পও লেখেন।
দুটি কবিতায়
কবি মনোজ পাইন
হাতটি সরিয়ো না
তুমি হাত সরিয়ে নিলে না,
প্রশ্রয়ের ওমে উত্তপ্ত হল সারা শরীর
তা থেকে আগুন জ্বলে উঠল
ছারখার হলো বাড়িঘর
আমি ঘর হারালাম।
সেই যে বেঘরে হয়েছি
তখনি ছিন্ন হয়েছে বসন।
দিগম্বরের জন্য এদেশে কবে কে
মাটি সঞ্চিত রেখেছ?
এখন দখিনা হাওয়ায় প্রেম বাজে
শীতার্ত সকালে প্রেম বাজে
ঘর্মাক্ত দুপুরেও বাজে!
সম্ভবনাময় প্রহরে অথবা উচ্ছন্নের রাত্রেও
আমি সারাক্ষণ তোমাতেই বেজে উঠি
কোমল গান্ধারে।
তুমি শুধু সরিয়ে দিও না হাত
শুধু মিটিয়ে ফেলোনা সমস্ত সংঘাত।
দাঁড়াবার জায়গা
দাঁড়াবার জায়গাটা আর কোথায় রইল নৃপেণ?
আমাদের ঘর ছিল এক
নীতি মেনে
নৈতিকতার বাগানে স্বচ্ছ সাদা ফুল ফুটতো সেখানে।
নীতিহীনতা ও ভ্রষ্টাচার সেখানে ঢুকল যেদিন
নিজেদের বাঁচাবার তালে তৎক্ষনাৎ খাটে উঠলাম,
যেদিন খাটে উঠল সেদিন সটান উঠে পড়লাম চালে
চালে উঠলেও কী বাঁচা চলে?
চালে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আমরা গাছে
এখন গাছে উঠলে?গাছে উঠেই বুঝেছি- ভুল
মস্ত বড় ভুল হয়েছে।গাছে ও তো উঠবেই!
এখন গাছ থেকে নামাও হে নৃপেন
গাছ দাঁড়াবার জায়গা নয় মোটেও।
দূর্ণীতি আর মেরুদণ্ডহীনতার রোগ বড় মারাত্মক
তাদের থাবাও খুব বড়
তবে আশার কথা এটাই
লড়াই আরো বড়,
লড়াইটা লড়েই একমাত্র বাঁচতে পারা যাবে
হে নৃপেন।


Comments
Post a Comment